June 5, 2020, 1:44 pm

শিরোনাম :
বান্দরবান জেলার সেনা রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে বান্দরবান, রুমা, অলীকদম এর বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ী এলকায় দুস্থ মানুষের পাশে সেনাবাহিনী কুয়াকাটায় প্রজনন মৌসুমে অমান্য করায় দুই জেলেকে ১০হাজার টাকা জরিমানা বান্দরবানে দূর্গম পাহাড়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অবহ্যত রেখেছে সেনাবাহিনী চৌদ্দগ্রাম পৌর কাউন্সিলর শাহীনসহ ২২ জনের করোনা শনাক্ত চৌদ্দগ্রামে দুই নেতার মঙ্গল কামনায় মসজিদে মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত করোনার ডেঞ্জার জোন হিসাবে আখ্যায়িত হতে যাচ্ছে সিলেট রংপুরে আইনজীবির গলাকাটা লাশ উদ্ধার বার সমিতির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ গ্রেপ্তার ১ কোভিড-১৯ মহামারীর সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে বাসা থেকে কাজ করবেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মীরা ভারতে ২৪ ঘণ্টায় মহামারী মরন ব্যাধী করোনায় আক্রান্ত ৯৮৫১ দেশে মহারী মরন ব্যাধী কোভিড রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ৮১১

কেউ খাইলে জরিমানা আবারে কেউ খাইলে ৭ দিন হতে ৫ বছর কারাদন্ড যার অপরাধ মাদক সেবন বা সংশ্লিষ্টতা : একই আদালতে বিচারের রায় দুই রকম

Spread the love

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।।

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলা পৌর শহরের চৌমাথা মোড় ডাক বাংলা মার্কেটের কনফেকশনারি দোকানে ফেন্সিডিল সেবনকালে হাতে নাতে আটক হয় দুই মাদকসেবী। এদের গ্রেফতার করেন পলাশবাড়ী থানার এস আই হাসিব ও সঙ্গীয় ফোর্স। গ্রেফতারকৃতরা হলো পৌর এলাকার নুনিয়াগাড়ীর বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রান ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক নিরোদবরণ চৌধুরী ঠাকুরের একমাত্র ছেলে সাগর কুমার চৌধুরী ও জামালপুর গ্রামের মৃত আবু পশ্চিমের ছোট ছেলে লিটন ওরফে খটকু লিটন। গ্রেফতারের পর পর এ খবর নিশ্চিত করে থানা অফিসার মাসুদুর রহমান জানান, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের প্রস্তুতি চলছে।

গ্রেফতারের পর থানা পুলিশ গ্রেফতারকৃত মাদক সেবীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মেজবাউল হোসেনের ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে পুলিশের হাতে গ্রেফতারের সার্বিক বিষয়ে উপস্থাপনের পর ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মেজবাউল হোসেন গ্রেফতারকৃত সাগর ও লিটন কে পৃথক পৃথক ভাবে ১০ (দশ) হাজার টাকা করে মোট ২০ (বিশ) হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এর আগে গোপন খবরের ভিক্তিতে মাদকসেবনের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালান চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা এস আই হাসিব এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স ডাকবাংলা মার্কেটে কনফেকশনারীর দোকানে অভিযান চালিয়ে মাদকসেবীদের ফেন্সিডিল সেবনের সময় হাতে নাতে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারের পর ভ্রাম্যমান আদালতে গ্রেফতারকৃতদের দুই জনের ২০ হাজার টাকা জরিমানা খবর নিশ্চিত করেন এস আই হাসিব।
আরো জানা যায়, গ্রেফতারকৃত মাদকসেবী সাগর কুমার চৌধুরী ছাত্র ও লিটন ওরফে খটকু লিটন বর্তমানে কনফেকশনারি ব্যবসায়ি তবে আগে তাহার বিরুদ্ধে ফেনসিডিল সংক্রান্ত মাদক মামলা আদালতে চলমান রয়েছে।
তবে জরিমানার বিষয়ের জানতে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মেজবাউল হোসেনের সাথে তাহার ব্যবহিৃত সরকারি মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগে না পাওয়ায় আদালতের জরিমানার বিষয়ে বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি।

তবে আজকের এই মাদক সেবনকালে গ্রেফতারের বিষয়টি টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়। থানা পুলিশের নিকট দেন দরবার চলে তবু থানা পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে অনড় থেকে ভ্রাম্যমান আদালতে পাঠায়।
তবে ভ্রাম্যমান আদালতের এ রায়ের বিষয়ে নানা জল্পনা কল্পনা চলছে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে । গতমাসে একই ধরণের অপরাধে ৫ জন সাবেক ছাত্রলীগ ও তাতীলীগ নেতাদের ৭ দিনের জেল দেওয়া হয় দেশীয় উৎপাদিত গাঁজা সেবনের অপরাধে। আর আজ সেই আদালতেই ভারতীয় ফেন্সিডিল সেবন কালে হাতে নাতে গ্রেফতার হওয়া দুই মাদকসেবীর বিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় ।
কিন্তু কি ভাবে কার মাধ্যমে কোথা হতে চৌমাথা মোড়ে আসলো এই ভারতীয় ফেন্সিডিল সেটি বের করা উপায় নাই আর সম্ভব হলো না এই ফেন্সিডিল আমদানী কারীকে চিহৃিন্ত করা । এ ভাবে চলছে কোন না কোন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ইন্ধনে মাদকের রমরমা গোপন ব্যবসা। সেবন কারীরা আর ব্যবসায়ির বাহিরে কেউ জানতে পারছে না বর্তমানে মাদকের কারবারের খবর।

এঘটনার পর পরে যা ঘটেছিলো, সাগর চৌধুরী গ্রেফতার পর থানায় কতিপয় নেতাকর্মীদের তদবির শুরু হয়। একের পর এক ফোন আসতে শুরু করে উপর মহল থেকে।স্থানীয় সাংবাদিকরা বিষয়টি ওয়াচ করতে শুরু করে।বিভ্রান্তিকর একটা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় পুলিশকে। এ যেন ছেরে দে মা কান্দে বাচি! এসময় পুলিশ আটককৃত ব্যক্তিদের ছবি দিতেও রাজি হয়নি। সাগর চৌধুরীকে ছাড়িয়ে নিতে খোজা হয় আইনের ফাঁকফোকর।এরপর এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় ভ্রাম্যমান আদলতের মাধ্যমে তাকে ছেরে নেওয়া হবে।সেই মোতাবেক থানার তদবির শেষে শুরু হয় এরপর ইউএনও সাহেবের কাছে তদবির চলে। প্রথমসারির কয়েকজন নেতা এই তদবিরে অংশ গ্রহণ করেন। বিজ্ঞ আদালতের বিচার প্রভাবিত হয়ে তাদের প্রত্যেককের ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করে বেকুসুর খালাশ দেন। বিজয় হয় মিথ্যার পরাজিত হয় সত্য! রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে সাধারন মানুষ মন্তব্য করেছেন টাকা আর ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিচার কার্য্য প্রভাবিত করা হয়েছে। এ ভাবে চলতে থাকলে বিচার ব্যাবস্থার উপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস কমে যাবে। তারা এই রায় আইন সিদ্ধ কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্টদের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন পলাশবাড়ীবাসী।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ