September 17, 2019, 2:37 am

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

Spread the love

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার


আদালতের সিদ্ধান্ত অমান্য করে এক প্রবাসীর জায়গা দখলের ষড়যন্ত্রে সহযোগিতা, জঙ্গি বানানোসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে  উৎকোচ গ্রহন ও চাঁদাদাবীর অভিযোগে মৌলভীবাজার কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল হাসানের বিরুদ্ধে কমলগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির শমশেরনগরস্থ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পৌর এলাকার চন্ডিপুর গ্রামের বয়োবৃদ্ধ হাবিবুন নাহার মজনু বিবি আজ ৪ নভেম্বর সকালে । লিখিত বক্তব্যে মজনু বিবি জানান- আমারিকা প্রবাসী স্বামী সিরাজ উদ্দিন, ছেলে জালাল উদ্দিন, চমন উদ্দিন আজাদ এবং ভাই মোশাহিদ খান ও মছব্বির খান  আমেরিকাতে বসবাস করেন। সেই সুবাদে তার ছেলে ও স্বামীর নিকট থেকে জমির মূল্য বাবদ বায়নামা দলিলে ব্যাংকিং মাধ্যমে মোশাহিদ খান ও মছব্বির খান নিজেদের প্রয়োজনে বিভিন্ন সময় কয়েক লক্ষ টাকা নেন। ১৯৯৮ সালে আলেপুর মৌজার ৪১৩ নম্বর দাগের জায়গা ক্রয় করে সমান অংশে মালিক হন আমারিকা প্রবাসী স্বামী সিরাজ উদ্দিন ও ছেলে জালাল উদ্দিন । পিতার মৃত্যুর পর শরীক ভাইদের সাথে যার যার অংশমতে ঐ ভুমিতে মালিক স্বত্ত্ববান ও দখলদার থাকাবস্থায় অন্যান্যদের সাথে বাটোয়ারা মুলে ওই দাগের ১৬ শতক জায়গা ভাইদের জ্ঞাতসারে ছেলে জালাল উদ্দিন এর নিকট ২০০৫ সালে ৯২৮নং দলিলমূলে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে জালাল উদ্দিন ওই জায়গায় মাটি ভরাট করে বাঁশের বেড়াযুক্ত ঘর নির্মান করে বিদ্যুৎ সংযোগ করেন। কিছুদিন পর কমলগঞ্জ পৌরসভা হতে নকশা অনুমোদন ও ঘর নির্মানের অনুমতি এনে প্রায় ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করা হয়। তখন মোশাহিদ খান জমি দখলের অসৎ উদ্দেশ্যে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল হাসানকে প্রভাবিত করে ঘরের নির্মান কাজে বাঁধা প্রদান করেন। এ ঘটনায় জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে মোশাহিদ খান, মছব্বির খান, মোস্তফা খান, আলমাছ মিয়া, কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও এসআই আল মামুনকে বিবাদী করে মৌলভীবাজার সহকারী জজ আদালত এ স্বত্ত্ব মামলা (নং- ১৪/২০১৭ইং) দায়ের করেন। মামলায় সকল বিবাদীর বিরুদ্ধে কেন অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারী করা হইবে না মর্মে কারন দর্শাতে ২০ দিনের মধ্যে নির্দেশ প্রদান করা হয়। এদিকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঘরের নির্মান কাজ শুরু হলে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল হাসান ও এসআই মাহবুবসহ কতেক ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে গালিগালাজ করে ৩ জন নির্মান শ্রমিককে আটক করে থানায় নিয়ে যান। তখন তাকে আদালতের জবেদা নকল ও জরুরী সংবাদ লিপি দেখালেও তা দেখতে চাননি। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি বসতঘরে অবৈধভাবে প্রবেশ করে নির্মান কাজ করতে এবং শ্রমিকদের ছাড়তে ১০ লাখ টাকা দাবী করলে তিন লাখ টাকায় ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে তার প্রবাসী ছেলে জালাল উদ্দিনকে জঙ্গি বানিয়ে জেলে আটক রাখার ভয় দেখিয়ে ২লক্ষ টাকা ও ধাপে ধাপে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল হাসান । এ ব্যাপারে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সংযুক্তি আরজি দাখিল করা হলে আদালত ৬ বিবাদীর প্রতি আপত্তি দাখিল পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এরপরও গত ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্মাণ কাজের স্থলে এসে গালিগালাজ ও আদালতের নির্দেশের প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে আদালত অবমাননা করেন। তিনি তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ, পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের সুদৃষ্টি কামনা করে বলেন- কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল হাসান এর চাঁদা দাবী এবং উৎকোচ গ্রহনের প্রতিকার চেয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার বরাবরেও আবেদন করা হয়েছে। মোশাহিদ খান ও কতিপয় ব্যক্তির চক্রান্তে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল হাসান প্রভাবিত হয়ে আমি, আমার প্রবাসী ছেলে জালাল উদ্দিন ও আত্মীয়স্বনকে মিথ্যা হয়রানী মামলায় জড়ানো, নির্যাতন এবং জায়গা দখলের অপচেষ্টা করছেন। এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল হাসান বলেন- আমার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্যাশ্যে প্রনোদিত, কাল্পনিক ও কেউ ইন্ধন দিয়ে আমার বিরুদ্ধে এ সংবাদ সম্মেলন করেছে। আমি আদালতের প্রতি তুচ্ছ তাচ্ছিল্য অথবা অবমাননা করিনি। সংবাদ সম্মেলনকারী ভদ্র মহিলার আপনমামার পৌত্রিক সম্মত্তি। তিনি ৩শতক জায়গার মালিক হয়ে ১৬ শতক জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মান করেছেন। বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান মেয়রসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অবগত রয়েছেন। তাছাড়া ঘটনার ৩ মাস পর আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন সেটা একটা ষড়যন্তের অংশ হতে পারে। তাদের নির্মানাধীন দোকান ঘর নিয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ