June 6, 2020, 3:34 am

শিরোনাম :
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের তমব্রু শূন্যরেখার কাছাকাছি ব্যাপক গুলিবর্ষণ করছে মিয়ানমার রাজাপুরে গ্রামীণফোন নের্টওয়ার্ক বিভ্রাটে এলাকাবাসীর মানববন্ধন মহিপুরে ডাকাত শামসু গ্রেফতার মুজিব বর্ষে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এমপি মুহিব নাটোরে নতুন করে আরোও ৩ জনের করোনা শনাক্ত; জেলায় মোট আক্রান্ত ৬৫ জন বক‌শিগ‌ঞ্জে ডিবি পুলিশের উপর হামলা করে আসামী ছিনতাই বান্দরবান জেলার সেনা রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে বান্দরবান, রুমা, অলীকদম এর বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ী এলকায় দুস্থ মানুষের পাশে সেনাবাহিনী কুয়াকাটায় প্রজনন মৌসুমে অমান্য করায় দুই জেলেকে ১০হাজার টাকা জরিমানা বান্দরবানে দূর্গম পাহাড়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অবহ্যত রেখেছে সেনাবাহিনী চৌদ্দগ্রাম পৌর কাউন্সিলর শাহীনসহ ২২ জনের করোনা শনাক্ত

এক শিক্ষক দিয়েই চলছে চৌষডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়

Spread the love

এক শিক্ষক দিয়েই চলছে চৌষডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়
নাহিদ হোসেন নাটোর প্র্রতিনিধি


অনিয়ম  যেন নিত্যদিনের সঙ্গী নাটোরের  লালপুুরের  চৌষডাঙ্গা  সরকারী প্র্রাথমিক  বিদ্যালয়।  কিছুু  অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সরেজমিনে  গিয়ে  অসংখ্য  অনিয়ম  চোখে পড়ে। বিদ্যালয়ে  ঢুুকত্ই্ েেচাখে পড়ে নম্¦রবিহীন সাইনবোর্ড। সেখানে সররকারী  প্রাথমিক বিদ্যালয় ও প্র্রতিষ্ঠার তারিখ,সাল  চোখে  পড়রেলও কত নং  বিদ্যালয়  তা  লেখা  নেই। প্রথম কক্ষে ঢুুুকতেই দেখা  যায়  শ্রেণিকক্ষ ভর্তি শিক্ষার্থী হইচই করছে। কেউ কেউ বাহিরে খেলা করছে। সেই শ্রেণীকক্ষে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হয়। তাদের ক্লাস হচ্ছে না কেন প্রশ্ন করাতেই সবাই বলেন ম্যাডাম অন্য রুমে ক্লাস করাচ্ছেন। ওদের ক্লাস শেষ হলেই আমাদের ক্লাস হবে। অন্য শিক্ষক শিক্ষিকাদের কথা জিঙ্গেস করাতেই তারা বলে উঠে অন্য স্যার ম্যাডাম সবাই ছুটিতে আছেন। আমাদের তো নাসরিন ম্যাডামই ক্লাস নেয়। ম্যাডাম ফাইভের ক্লাসে আছেন তাই আমাদের ক্লাস বন্ধ। পরের রুমে গিয়েই দেখা যায় সেখানে সিমেন্টের বস্তা ভর্তি গোডাউন। রুমের এক কোণে বিছানা পেতে থাকেন সেই বিদ্যালয়ের প্রাচীর নির্মাণের শ্রমিকরা। আর সে কারনেই প্রথম শ্রেণীকক্ষে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের একসাথে ক্লাস করানো হয়। সেখান থেকে পরের রুমে ঢুকার আগেই মাথার উপরে অফিস কক্ষ লেখা চোখে পড়ে। কিন্তু ছোট্ট এই অফিস কক্ষই ব্যবহার করা হচ্ছে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য। সেখানে পাঠদান করছেন নাসরিন খাতুন নামের এক শিক্ষিকা। প্রধান শিক্ষক ও অন্য সহকারী শিক্ষকরা কোথায় আছেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন একজন শিক্ষিকা তাজকেয়াতুন্নেছা খাতুন মাতৃত্যকালীন ছুটিতে আছেন। অন্য ম্যাডাম মুন্নি খাতুন এসে ছুটি নিয়ে বাড়ি গেছেন আর প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন গুরুত্বপূর্ণ কাজে উপজেলায় গেছেন। তিনি একাই এতোগুলো শ্রেণীকক্ষে পাঠদান কেমন করে করাচ্ছেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন বুঝেন ই তো। এটা তো সম্ভব না। তারপরেও এক রুমে লিখতে দিয়ে অন্য রুমে গিয়ে পড়া দিচ্ছি। কষ্ট হলেও তো কাভার দিতে হবে। তবে তিনি গোজামিলি দিয়েই পড়াচ্ছেন বলে স্বীকার করেন। এর পরেই ঢুকা হয় অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত শ্রেণীকক্ষে। সেখানে কেউ নেই। তবে বসে আছেন মধ্যবয়সী একজন ভদ্র মহিলা। তিনি আর কেউ নন। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেনের মা শাহনাজ বেগম। তিনি বসে আছেন ছুটির অপেক্ষায়। ছুটি হলেই চলবে তার প্রাইভেট বানিজ্য। তিনি এখানে কেন এসেছেন বললে তিনি বলেন আমি এখানে প্রাইভেট পড়ায়। বিদ্যালয়ে প্রাইভেট কেন পড়াচ্ছেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, অভিভাবকদের অনুরোধে আমি এখানে প্রাইভেট পড়াচ্ছি। এতে তো দোষের কিছু নেই। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন তো অধিকাংশ সময় বিদ্যালয়েই থাকেন না। তার স্ত্রী মুন্নি খাতুন এসেই ছুটি নিয়ে চলে যান বিভিন্ন অজুহাতে। এছাড়াও তিনি দুইটা বাচ্চা নিয়ে আসেন। তারা একটু কান্না করলেই ছুটি নিয়ে চলে যান। এছাড়া তার মা কে দিয়ে স্কুলেই করাচ্ছেন প্রাইভেট বানিজ্য। ছেলে মেয়ে অভিভাবকদের ইচ্ছে থাকুক আর না থাকুক প্রাইভেট পড়তেই হবে। মাস গেলেই প্রতিজনকে দিতে হবে ২০০ টাকা করে। মাত্র ৯৫জন শিক্ষার্থী এ বিদ্যালয়ে। অথচ সরকার প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা বেতন দিচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীদের। যা প্রায় শিক্ষার্থী প্রতি মাসে এক হাজার টাকা। এছাড়াও তো শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন খরচ বহন করছে সরকার। এতো টাকা খরচ করেও  বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান পুরোপুরি নি¤œ পর্যায়ে। সচেতন পরিবারের অধিকাংশ শিশুকেই পাশ^বর্তী বিভিন্ন স্কুলে পাঠানো হয়। এখানে শুধু অশিক্ষিত নি¤œ পরিবারের ছেলেমেয়ে পড়ালেখা করে। লেখাপড়ার মান যদি এই অবস্থা হয় তাহলে সরকারের এতো টাকা ভূতের পিছেই তো ঢালা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক নাকি অনেক প্রভাবশালী। কিছু বললেই বলে তুলে নিয়ে যাবো। মুখ খুলতেই পারেনা অভিভাবকরা। তাই ঝামেলা না হওয়ার ভয়ে বাচ্চাদের অন্যখানে পড়ায়। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেনের মুঠোফোনে(০১৭১৪৫২১৮৭১) নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হতে হয়। অনেক বার কল করলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি একরামুল মোল্লা বলেন আমি মূর্খ মানুষ বাবা। আমি কিছু বুঝিনা। আমাকে সবাই সভাপতি বানিয়েছে তাই হয়েছি। এসব কিছু লিখে বিপদে ফেলে দিওনা বাবা। তোমরা আমার ছেলের মতো। প্রয়োজনে আমি এ পদ থেকে সরে দাড়াচ্ছি। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে(০১৭২৭৮০১৯০৯) কথা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আপনে যে পয়েন্টগুলো ধরেছেন সেগুলো কখনোই মেনে নেওয়ার নয়। বিদ্যালয়ে কোচিং, শ্রেণীকক্ষে সিমিটের গোডাউন, একই শ্রেণীকক্ষে দুই ক্লাসের পাঠদান এগুলো কখনোই কাম্য নয়। শীঘ্রই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ