January 24, 2020, 12:00 pm

শিরোনাম :
নির্বাচিত হলে ২৪ ঘণ্টা সেবা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস ২৪শে জানুয়ারির চট্টগ্রাম গনহত্যা, শহীদ বেদীতে সৈনিকলীগ(কামরুল/ওয়াদুদ) নগর ও দক্ষিণ জেলার পুস্পান্জলী অর্পন পীর মুর্শিদ ও বিশ্বের সকল অলি আল্লাহর স্মরণে আগাণী ৯ই ফেব্রুয়ারি রোজ রবিবার ২০২০ইংরেজি তারিখে পালিত হতে যাচ্ছে ৯তম বার্ষিক ফাতেহা শরীফ সামনে রমজানে বাজার তদারকিতে সরকারের উদ্যোগ যেন ফলপ্রসূ হয় রাজধানী ঢাকার মিরপুরে চলন্তিকা বস্তিতে ফের ভয়াবহ আগুন নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস্ লিঃ এর শ্রমিক ইউনিয়নের দ্বী-বার্ষিক নির্বাচন সম্পূর্ণ দেশের ৯৭৩টি টেক্সটাইল কোম্পানি ৫ হাজার ৫১ কোটি টাকা গ্যাস বিল বকেয়া রেখেছে লাহোরে প্রথম টি-২০ আজ জয় দিয়েই সিরিজ শুরু করতে চায় বাংলাদেশ শক্তিশালী ঝড় গ্লোরিয়ার আঘাতে স্পেনে ১৩ জন নিহত হয়েছেন আজ ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস

উদ্ধার জাহাজে আটকা পড়ছে ৫ শতাধিক শরণার্থী

Spread the love

উদ্ধার জাহাজে আটকা পড়ছে ৫ শতাধিক শরণার্থী

ডিটেকটিভ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

লিবিয়া উপকূলে ভূমধ্যসাগরে দুইটি উদ্ধার জাহাজে ৫ শতাধিক শরণার্থী আটকা পড়েছে। ইউরোপের অধিকাংশ দেশ তাদের প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় কার্যত তারা সেখানে এ অবস্থায় রয়েছে বলে দাবি করছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। ডক্টরস উইথআউট বর্ডারস বলছে, একটি জাহাজে ১০৩ শিশু রয়েছে, তাদের অধিকাংশই অভিভাবকহীন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্টআই’র এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য আসছে।আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মতে,  ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার পথে প্রতি বছর হাজার হাজার অভিবাসীর মৃত্যু হয়। একে শরণার্থীদের জন্য সবচেয়ে বিপদজনক পথ মনে করা হয়। ২০০০ সালের পর থেকে থেকে এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজার অভিবাসী এই পথে ডুবে মারা গেছে কিংবা নিখোঁজ রয়েছে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ডক্টরস উইথআউট বর্ডারস (এমএসএফ) জানিয়েছে, দ্য ওশান ভাইকিং উদ্ধার জাহাজ শুক্রবার ভূমধ্যসাগর সাগর থেকে ৩৫৬ জন শরণার্থী উদ্ধার করে। তবে এখনও এ জাহাজটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল পায়নি।

মানবাধিকার সংগঠন বলছে, নরওয়ের পতাকাবাহী একটি জাহাজ ১০৩ শিশুকে বহন করছে যাদের মধ্যে মাত্র ১১ জনের সাথে তাদের অভিভাবক রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্পেনের পতাকাবাহী ওপেন আর্মস নামে আরও একটি জাহাজ ১৬০ জনকে বহন করছে এবং কোথাও তাদের জন্য নিরাপদ ঘাট নেই। এমএসএফ বলছে, লিবিয়া কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকৃতদের জাহাজ থেকে নামিয়ে এমন নিরাপদ স্থান দিতে ব্যর্থ হয়েছে, যাতে তারা আন্তর্জাতিক আইন মানতে বাধ্য হয়।

শরণার্থীদের জাহাজ থেকে নামিয়ে রাখার নিরাপদ স্থান খুঁজে পেতে সহায়তার জন্য মাল্টা ও ইতালি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন।

এমএসএফের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর জয় বার্জার বলেন, ‘লিবিয়ার মধ্য দিয়ে যাত্রা করার সময় শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক সহিংসতার ভয়াবহ লক্ষণ বহন করেছে জীবিতরা। বিলম্ব ছাড়াই এই মানুষদেরকে নিরাপদ স্থানে নামার অনুরোধ করছি। তারা যথেষ্ট ভোগান্তির শিকার।’

রয়টার্স বলছে, জাহাজ দুইটি মধ্য ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক আইনানুযায়ী, এই শরণার্থীদেরকে নিকটতম নিরাপদ বন্দরে নিতে হবে। তবে ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তিও সালভিনি বলেছেন, এ দুই জাহাজের শরণার্থীদের গ্রহণ করবে না ইতালি। সালভিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এনজিওর দুইটি নৌকা থেকে ৫ শতাধিক শরণার্থীকে তীরে ভিড়ানো আটকাতে মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছি আমি।’

২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬০০,০০০ এরও বেশি অভিবাসী নিয়েছে ইতালি,  কিন্তু বর্তমান ডানপন্থী সরকার ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অভিবাসন বিধিমালা কঠোর এবং উদ্ধার অভিযানকে নিরুৎসাহিত করার পর গত দুই বছরে নতুন আসা শরণার্থীদের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। ইতালির জলসীমায় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা উদ্ধার জাহাজের মালিকদের বিরুদ্ধে ১.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা করতে পারবে; এমন নতুন আইনের অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সরকার।

মঙ্গলবার সালভিনি বলেন, ‘আমি আপনাকে জানাবো এটা কীভাবে শেষ হবে, আমি হাল ছাড়বো না’। তিনি বলেন, ওশান ভাইকিংয়ের শরণার্থীদেরকে লিবিয়ার ফেরত নেওয়া উচিত এবং ওপেন আমর্সের শরণার্থীদের স্পেনে ফিরে যাওয়া উচিত। তবে স্পেনের ভারপ্রাপ্ত উন্নয়ন মন্ত্রী জোস লুইস আবালোস শরণার্থীদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাদের সাথে ইতালির চুক্তি করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবালোস মঙ্লবার টেলিসিনো টিভিকে বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী উদ্ধারকৃতদের নিকটতম নিরাপদ বন্দরে নিতে হবে। সন্দেহ নেই, এটা ইতালির মধ্যে পড়ে। এটা যদি আমাদের হতো, আমরা তাই করতাম।’

এ বছরের প্রথম চারমাসে ভূমধ্যসাগরের একই রুটে প্রায় ১৬৪ জন শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গত মে মাসে তিউনিসিয়া উপকূলে শরণার্থী নৌকা উল্টে অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়। লিবিয়া থেকে শরণার্থীরা ইউরোপে পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতিবছরই এমন দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা যাচ্ছে।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ