October 15, 2019, 7:40 pm

ইস্টার সানডের পরবে রক্তাক্ত শ্রীলঙ্কা

Spread the love

ইস্টার সানডের পরবে রক্তাক্ত শ্রীলঙ্কা

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

ইস্টার সানডের পরবের দিন শ্রীলঙ্কায় অন্তত আট জায়গায় গির্জা ও হোটেলে বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০৭ জনে।

রোববার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে দুই দফায় এসব হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন সাড়ে চারশ মানুষ।

শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধের পর গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই হামলার দায় স্বীকার করেনি কেউ।

এই হামলার শিকার হয়েছে দেশটিতে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের তিনটি বড় গির্জা সেইন্ট অ্যান্থনির চার্চ, সেইন্ট সেবাস্টিয়ানের চার্চ আর জিয়ন চার্চে, যেখানে ইস্টার সানডের প্রার্থনায় সমবেত হয়েছিল হাজারো মানুষ।

হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল কলম্বোর পাঁচ তারকা হোটেল শাংরি লা, কিংসবুরি আর সিনামন গ্র্যান্ডের বিদেশি পর্যটকরা।

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ২৭ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন তুর্কি, একজন ডাচ ও একজন চীনা নাগরিক।

হামলার পর আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত হওয়া কলম্বোতে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে দেশটির সরকার। পাশাপাশি সোম ও মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয়েছে সরকারি ছুটি।

শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী রাভন বিজয়বর্ধনে বলেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কারফিউ জারির এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

পাশাপাশি গুজব ঠেকাতে ফেইসবুক, হোয়াটস অ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যমগুলোও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, কলম্বোর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীরাই অধিকাংশ বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে তদন্তকারীরা ধারণা।

দেশটির প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলছেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে, একটি গোষ্ঠীই হামলাগুলো চালিয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

“কোনো উগ্রপন্থি দল এ দেশে থাকতে পারবে না। তাদের তৎপরতা বন্ধের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই আমরা নেব।”

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা এ হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে নাগরিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

আর হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমসিংহে বলেছেন, “আমি এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। দেশের মানুষকে আমি ঐক্যবদ্ধ ও শক্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”

ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এ হামলাকে ‘অত্যন্ত নিষ্ঠুর সহিংসতা’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি ‘হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা’ প্রকাশ করেছেন তিনি।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ