August 18, 2019, 12:30 am

শিরোনাম :
হাকিমপুরে যুবতীর লাশ উদ্ধার জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র থেকে কিশোরের লাশ উদ্ধার নিলাদ্রী থেকে বাড়ি ফেরার পথে তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষক গ্রেফতার নবীগঞ্জে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম জিয়ার জন্মবার্ষিকী পালন মিঠাপুকুরে স্বামীর নেশার টাকা যোগান দিতে না পারায় স্ত্রীকে গলায় ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টা স্বামী আটক শিবগঞ্জে শতাধিক এতিম প্রতিবন্ধীদের মাঝে শাড়ী লুঙ্গী বিতরণ তালায় অবিরাম বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়তে চাওয়ায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয় পাইকগাছার দুস্থ ও হতদরিদ্র মানুষের সাথে শোক দিবসের খাবার খেলেন এমপি বাবু সুন্দরগঞ্জে শিশু বলাৎকারের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার

ইসলামপুরে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নেই নাগরিক সেবা বিঘ্নিত

Spread the love

লিয়াকত হোসাইন লায়ন,ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধিঃ

জামালপুর ইসলামপুর উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নে পরিষদে নিজস্ব কমপ্লেক্স ভবন না থাকায় ডিজিটাল সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়া সহ প্রতিনিয়তই ভোগান্তিতে রয়েছে সাধারন মানুষ। বর্তমান সরকার ডিজিটালাইজ বাংলাদেশ ঘোষনা করে মানুষের দৌড়গোড়ায় সেবা নিশ্চিত করলেও উপজেলার কুলকান্দি,বেলগাছা,চিনাডুলী,সাপধরী,নোয়ারপাড়া ও গোয়ালেরচর এই ৬টি ইউনিয়র পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে যমুনা নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ায় প্রতিনিয়তই হচ্ছে বঞ্চিত সেবাগ্রহীতারা।জানাগেছে, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থাকলেও সাপধরী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ১৯৯৩ সালে – কুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ১৯৯৬ সালে বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ২০০৫ সালে নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ২০০৬ সালে এবং চিনাডুলি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ২০১০ সালে যমুনা গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও এসব ইউনিয়ন পরিষদ স্থাপনে সরকারের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।এ উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন পরিষদ না থাকায় দীর্ঘদিন থেকেই দেখাযায়, চেয়ারম্যানের বাড়িতে, বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওপর চালাঘরে কিংবা বাজারের ভাড়াটে ঘরে ঝুলছে পরিষদের সাইনবোর্ড। আর সেখানেই ভ্রাম্যমান ভাবে চলে পরিষদের সভা সমাবেশেসহ যাবতীয় কার্যক্রম।অন্যদিকে গুদামঘর না থাকায় টি.আর, জি.আর, ভিজিএফ, ভিজিডিসহ সরকারি বিভিন্ন রিলিফ সামগ্রী এলাকায় নেননা চেয়ারম্যানরা। মূলত এসব অঞ্চলে যখন যিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তার বাড়ি থেকেই চলে পরিষদের যাবতীয় কার্যক্রম।সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের জন সাধারন প্রতিনিয়তই হয়রানির শিকার হচ্ছে। প্রয়োজনের তাগিদে পরিচয়পত্র নিতে পারলেও ডিজিটালইজ সেবা থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে। দেখাগেছে,অস্থায়ী কার্যালয়ে কোন নেটওয়ার্ক নেই, বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই। কোন তথ্য সেবাকেন্দ্রও নেই। ইচ্ছা করলেও জন সাধারন তথ্য সেবাকেন্দ্র সাধ গ্রহন করতে পারছেনা। পরিচয়পত্র, লাইসেন্স, জন্ম-মৃত্যু সনদ ও তথ্য কেন্দ্র এবং গ্রাম্য আদালতের বিচার পাওয়া থেকে দীর্ঘদিন যাবত বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।সেবা নিতে আসা ওই ইউনিয়নে করিরতাইর গ্রামের রেজাউলের স্ত্রী পারভীন বেগম বলেন, বেঠিডে স্কুলে ভর্তি করমু জন্ম সনদের জন্য তিনদিন আইলাম,খালি অঠ ভাড়া গেল জরম সনদ পাইলাম না।একই কথা বললেন ওই এলাকার সাদা মিয়ার স্ত্রী ফরিদা বেগমের, সন্তান ভর্তি করতে জন্ম সনদ প্রয়োজন তিনদিন এসে নিতে পারেনি বলে আক্ষেপ করে এ প্রতিবেদককে বলেন- কিয়ের বলে আবার জন্ম সনদ আগে এবেই ভর্তি করছি। কামকাজ ফেলাইয়ে থুয়ে খালি ঘুরি যাই।এ ব্যাপারে ওই ইউনিয়নের উদ্যোক্তা নাজনি আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, অস্থায়ী কার্যালয় নুতন হয়েছে। এখনো কোন তথ্য সেবাকেন্দ্র তৈরি হয়নি। এখানে কোন নেটওয়ার্ক নাই,তাই জনগন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।নোয়ারপাড়ার ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদটি বন্যায় বিলীন হয়ে যাওয়ায় আমার বাড়ির সামনে অস্থায়ী পরিষদ করা হয়েছে। নির্ধারিত কোন ইউপি ভবন না থাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করা খুবই কষ্ট হচ্ছে। স্থায়ী অফিস না থাকায় পরিচয়পত্র, লাইসেন্স, জন্ম-মৃত্যু সনদ ও তথ্য কেন্দ্র এবং গ্রাম্য আদালতের বিচার করতেও সমস্যা হয়।কূলকান্দি ইউনিয়নে বিগতদিনে সেলিনা আলম চেয়ারম্যান ছিলেন তার বাড়িতেই চলছে ৫বছর কার্যক্রম। বর্তমানে চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেট তার বাড়িতে কার্যক্রম। নতুন টিনসেড ঘর তুলে কোনমতে চলছে পরিষদ। সেবা গ্রহিতারা প্রতিনিয়তই হয়রানির স্বীকার ও বিড়াম্বনা পোহাতে হচ্ছে।দুস্থ রাবেয়া বেগম জানান, চেয়ারম্যান সব সম্য় তাহেনা,আইলে হে পাইনে। খালি ঘুরিযাই।একই কথা ছাখিনা বেগমের, জন্মসনদ আনবের গেছিলাম,কিয়ের বলে কি নাই( তথ্য সেবা কেন্দ্র নেই) তাই পাইলাম না আরেক দিন আইবের কইল।
চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেট বলেন, কুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদটি যমুনার ভাঙ্গনে বিলীন হওয়ায় আমার বাড়ির আঙ্গিনায় একটি টিনসেড ঘর নির্মাণ করে অস্থায়ী পরিষদ করা হয়েছে। স্থায়ী অফিস না থাকায় পড়তে হচ্ছে নানা ধরনের বিড়ম্বনায়। তাই অতি জরুরী স্থায়ী একটি ইউপি ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।
একই অবস্থা উপজেলার বেলগাছা,চিনাডুলী,সাপধরী,গোয়ালেরচর ইউনিয়ন বাসীর। তাদের দাবী স্থায়ীভাবে ভবন থাকলে সেবার মান নিশ্চিত হবে। স্থায়ী ভবন না থাকায় পরিচয়পত্র.জন্মসনদের প্রয়োজনেও চেয়ারম্যান,সচিবদের দেখা মেলা দূস্কর হয়ে দাড়ায়। আরো জানায়,প্রতিবারই যিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তার বাড়িতে অস্থায়ী কার্যালয় হওয়ার ফলে নথিপত্র,সোলার প্যানেল,ডিজিটালাইজ যন্ত্রাংশ টানা হেচড়ায় বেশীর ভাগই নষ্ট হয়ে যায়। এতে একদিকে সরকারে ক্ষতি অন্যদিকে ডিজিটালাইজ সেবা থেকে বঞ্চিত হয় ইউনিয়নবাসী। তারা প্রশাসনের নিকট আবেদন জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন সহ ডিজিটালাইজ সেবার মান নিশ্চিত করার দাবী জানান এলাকাবাসী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ম্হোাম্মদ মিজনুর রহমান জানান-ভবন সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। নাগরিক সেবা যাতে  বিঘ্নিত না হয় সেদিনে দৃষ্টি রয়েছে। তবে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/ইকবাল

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ