October 25, 2020, 7:17 pm

শিরোনাম :
রংপুরে ডিপ্লোমা ঐক্য পরিষদ এর মানববন্ধন ও র‍্যালী অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে পুজামন্ডপে নিসচার মাস্ক ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ মহিপুরে নৈশ প্রহরী নিয়োগের নামে উৎকোচ গ্রহণ কলাপাড়ায় ইউপি সদস্য হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার সুন্দরগঞ্জে শারদীয়োৎসবে দুঃস্থ মহিলাদেরকে বস্ত্র বিতরণ রাজশাহীতে তিন দশক পর ‘ঢলন’ প্রথা আজ বিলুপ্ত বৃষ্টিতে অচল জগন্নাথপুর-সিলেট সড়ক রংপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ধর্ষণের চেষ্টা’ থানায় অভিযোগ আদমদীঘিতে ৬০কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার- ৩ মোরেলগঞ্জে সাড়ে ৮ লাখ টাকার অবৈধ জাল আটক ও ভস্মিীভূত করেছে নৌবাহিনী চিলমারীতে কাঁচকোল সামাজিক সংগঠনের উদ্দেগে গরীব ও অসহায়দের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে সরিষাবাড়ীতে পিডিবি‘র একটি খুটির মূল্য ৪ হাজার টাকা ঝড়ো আবহাওয়ায় কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকদের ভীড় যাত্রাবাড়ী ও চকবাজার থানা এলাকা থেকে ইয়াবা ও ফেসিডিলসহ আটক ০২ মধ্যনগরে মসজিদ নির্মাণের টাকা আত্নসাদের অভিযোগ র‌্যাব-৫ এর পৃথক দুটি অভিযানে অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার’ দুই মাদক ব্যাবসায়ী অটক ভারতে পাচার ৩ যুবক-যুবতীকে বেনাপোলে হস্তান্তর র‌্যাব-১০ পৃথক পৃথক অভিযানে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে ইয়াবা ও বিয়ারসহ আটক ০৩ আদমদীঘিতে ১২০বোতল ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার রংপুরে পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় চুরি ও এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা খোয়া

ইয়াবার সম্রাটরা কৌশলে চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসা, পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন দুই ব্যক্তি

Spread the love

শাহাদত হোসেন, বিভাগীয় প্রধান চট্টগ্রামঃঃ

অভিনব কৌশলে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা, দুই  ব্যক্তি মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের স্টেশন রোড থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তারা তুর্ণা-নিশিথা ট্রেনে ইয়াবা নিয়ে ঢাকা যাওয়ার চেষ্টায় ছিলেন।

পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াবার মালিককেও গ্রেপ্তার করার তথ্য জানিয়েছেন নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালী জোন) নোবেল চাকমা।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন আবু বক্কর সিদ্দিক
(৫১), সাইফুল ইসলাম (৫১) ও জাহাঙ্গীর আলম (৪৬)।

সহকারী কমিশনার নোবেল চাকমা  মোঠোফোনে প্রাইভেট ডিটেকটিভ কে বলেন,
ফলের ঝুঁড়ি, ছাতার হাতলের ভেতরে ইয়াবা নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন দুই ব্যক্তি।
তিনি  আরও বলেন, প্লাস্টিকের ঝুড়িতে ইয়াবা রেখে আঠা দিয়ে আরেকটি প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। ঝুঁড়িতে ফলের সঙ্গে থাকা সাবানের ভেতরে এবং ছাতার হাতলেও ইয়াবা রাখা হয়েছিল।

স্টেশন রোডে কোতোয়ালী থানা পুলিশের একটা দল ছিল। দুই ব্যাত্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ তাদের থামিয়ে তল্লাশী চালায়। এসময় তাদের সঙ্গে থাকা ফলভর্তি ঝুড়ি তল্লাশি করা হয়।

তাদের হাতে ছাতা দেখে পুলিশের মনে আরও সন্দেহ সৃষ্টি হয়। তখন আরও তল্লাশী করে পাঁচ হাজার ২০০ ইয়াবা পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, জাহাঙ্গীর নামের একজন  ইয়াবাগুলো ঢাকায় পৌঁছে দিতে বলেছিল।

তাদের তথ্যের ভিত্তিতে পরে মধ্যরাতে খুলশী থানার আমবাগান এলাকা থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ কর্মকর্তা নোবেল চাকমা জানান।গাড়ি ও ব্যক্তি পরিবর্তন করে টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত আবার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যায় ইয়াবা।

কিছুতেই থামছে না বাংলাদেশে ইয়াবা পাচারের ব্যবসা। সরকারিভাবে কঠোর নির্দেশে গত দুই বছর থেকে কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকা টেকনাফসহ জেলার সর্বত্র এসব বন্ধে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা কারবারিদের অনেকেই গা ঢাকা দেয়, আবার অনেকের মৃত্যু হয় কথিত বন্দুকযুদ্ধে।

কিন্তু এতো কিছুর পরেও টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত মাদক তথা ইয়াবা পাচার থেমে যায়নি।
প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা নামক মরণ নেশা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এ মরণ নেশার ব্যবসা নির্মূলে শেষ করতে হলে,ইয়াবা কারবারিদের নয়,আগে সহযোগী প্রভাবশালীদের আইনের আওতায় আনা উচিত।
নামে মাত্র দুই দফায় ১২৩ জন ইয়াবাকারবারী আত্মসমর্পণ করেছে। উক্ত সময়ে গত দুই বছরে টেকনাফ থানায় ১৪৪টি কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হয়েছে, কিন্তু এর মধ্যে গোপনে ৬০ থেকে ৭০ জন জামিনে বের হয়ে এসেছে।

অবসর প্রাপ্ত মেজর সিনহা কে হত্যা পর এক এক করে বেরিয়ে আসছে ইয়াবা নির্মূলের নামে টেকনাফ পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধ ও অনৈতিক বাণিজ্যের বিষয়।

স্থানীয় ব্যাত্তিরা মনে করেন,
নামে মাত্র শুধু ইয়াবা ব্যবসা করে  তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়, কিন্তু এলাকার প্রভাবশালী সহযোগী এম পি, মন্ত্রী প্রসাসনিক গডফাদার ইয়াবা  ব্যবসার মূল কারবারি তারা  আইনের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন।
রাজনৈতিক নেতাদের এবং পুলিশের মধ্যে যদি সত্যিকারের দেশপ্রেম থাকে তাহলে দেশে কখনও মাদক ঢোকতে পারে না বলে সরকার দলীয় এমপি সায়মন সরোয়ার কমল জানান। তিনি আরও বলেন,সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাদক পাচার রোধ করা সম্ভব।

ইয়াবা ব্যবসা নির্মূলে সব বাহিনীর যৌথ অভিযান পরিচালনা এবং গডফাদারদের গ্রেপ্তারসহ তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত কারার পরামর্শ দেন তিনি।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের সর্বশেষ তালিকায় কক্সবাজারে ইয়াবা ব্যবসায়ীর সংখ্যা ১ হাজার ২৫০ জন।

টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত যারা ইয়াবা ব্যবসা করে অবৈধভাবে অনেক টাকার মালিক , তাদের বিরুদ্ধে সঠিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে টাকার পাহাড়ে ইয়াবা সম্রাট প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।
দেশের প্রতিটি জেলায় জেলায় সঠিক তদন্তপূর্বক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা হলে তবেই ছোটখাটো ইয়াবা ব্যবসায়ী বন্ধ হয়ে যাবে।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ