July 22, 2019, 3:55 am

ইবির ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি, আটক দুই

Spread the love

ইবির ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি,  আটক দুই
ইবি প্রতিনিধি


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি চক্রের দুই সদস্য আটক করা হয়েছে। সোমবার আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেসিয়ামের পিছন থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক এক বছর করে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান জিমনেসিয়ামের পিছনে যান। সেখানে তিনি মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫/১৬ শিক্ষাবর্ষের রকি, হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০১৩/১৪ শিক্ষাবর্ষের অকৃতকার্য ছাত্র লাল চাঁদ, বাংলা বিভাগের ২০০৬/৭ শিক্ষাবর্ষের মাসুদসহ কয়েকজন জালিয়াতি চক্রের সদস্যদের হাতে প্রবেশ পত্র তুলে দিচ্ছিল বলে জানতে পারেন। প্রক্টরের উপস্থিতি লক্ষ্য করে তারা তাদের বন্ধু ঝিনাইদহ কেসি কলেজের ডিগ্রির শিক্ষার্থী মাহমুদুল হককে রেখে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। সেখান থেকে জালিয়াতি চক্রের সদস্যদের রেখে যাওয়া পরবর্তী ও পূর্র্ববর্তী পরীক্ষার জালিয়াতির গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট জব্দ করা হয়। মাহমুদুল হককে প্রক্টর অফিসে নিয়ে জিজ্ঞানবাদ করে জালিয়াতি চক্রের সদস্যদের তথ্য পাওয়া যায়। পরে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে সোহানুর রহমান ভর্তি পরীক্ষার রোল ১০২৪৮ ও রিফাত শেখ ভর্তি পরীক্ষার রোল ১১৯০৬ এর পরিবর্তে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আলম ও কাওসার নামে জালিয়াতি চক্রের দুই প্রক্সিবাজকে কৌশলে আটক করা হয়। এসময় অন্যরা পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
আটক দুই জালিয়াতি চক্রের সদস্য হল জয়পুরহাট পাঁচবিবি থানার আবুল হোসেনের পুত্র মোঃ আলম। সে বগুড়া আজিজুল হক কলেজের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। এছাড়াও একই জেলার আবুল কাশেমের পুত্র মোঃ কাওসার আলী। সে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের ২০০২/০৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। কুষ্টিয়া ডিসি কোর্টের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম কমল পাবলিক পরীক্ষা সমূহ অপরাধ আইন ১৯৮০এর ৩ নং ধারা মোতাবেক তাদের সাজা প্রদান করেন। আলমকে ১বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড ১০হাজার টাকা অনাদায়ে আরো ১মাস কারাদন্ড এবং কাওসারকে ১বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৪০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১মাস কারাদন্ড প্রদান করেন। পরে তাদের পুলিশের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এছাড়াও রকি,লাল চাঁদ,মাসুদসহ জালিয়াতি চক্রের সদস্যদের আটক করার প্রক্রিয়া চলছে।

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ রতন শেখ বলেন,‘পরীক্ষায় জালিয়াতিকারীরা শিক্ষকদের চোখ ফাঁকি দিতে পারলেও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে পারেনি। আটক দুইজনকে মঙ্গলবার কুষ্টিয়া কারাগারে প্রেরণ করা হবে।’

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ