August 14, 2019, 12:32 am

আগের সরকার আর বর্তমান সরকার এক নয়, আমরা যা বলি তাই করি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Spread the love

আগের সরকার আর বর্তমান সরকার এক নয়, আমরা যা বলি তাই করি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, নদী তীরবর্তী যেসব এলাকা দখলমুক্ত হয়েছে, সেগুলো আবার কেউ দখলের চেষ্টা করবে বলে আমি মনে করি না। আর কেউ যদি অবৈধ দখলের চিন্তা করেন, তবে ভুল করবেন। কারণ আগের সরকার আর বর্তমান সরকার এক নয়। আমরা যা বলি তাই করি। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের খোলামোড়া ঘাটে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্যোগে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরে সীমানা পিলার স্থাপন, ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাজধানীর চারপাশে থাকা নদীর তীরগুলো দখলমুক্ত করতে সরকার কাজ করছে। এরপরও কেউ যদি পুনরায় নদীর তীর দখলের চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদীর তীর দখলমুক্ত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একে একে সব নদী দখলমুক্ত করা হবে। নদীমাতৃক বাংলাদেশকে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে। তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে ৬ জুলাই থেকে নদীবন্দর এলাকায় ৩ হাজার ৮০৩টি আরসিসি সীমানা পিলার, রামচন্দ্রপুর থেকে বসিলা ও রায়েরবাজার খাল থেকে কামরাঙ্গীরচর পর্যন্ত এক কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, এক কিলোমিটার কিওয়াল, আড়াই কিলোমিটার ওয়াকওয়ে অন পাইল নির্মাণ করা হবে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এগুলোর স্থাপন কাজ শেষ হবে। এছাড়া, ৮৪৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র অন্য একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। ২০২২ সালের জুন মাস নাগাদ ওই প্রকল্পের আওতায় নদীর তীরে ৫২ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, ১০ হাজার ৮২০টি সীমানা পিলার, তিনটি ইকোপার্ক, ১৯টি আরসিসি জেটি, ১০০টি আরসিসি সিঁড়ি, ৪০৯টি বসার বেঞ্চ, ৪৪ কিলোমিটার নদীর তীর রক্ষাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হবে বলেও জানান তিনি। নদী দখলের বিষয়ে এর আগে রাষ্ট্র কোনও পদক্ষেপ নেয়নি উল্লেখ করে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নদীগুলো দখল করা হয়েছে, বিষয়টি আমি মানতে নারাজ। আমি বলবো, ইতোপূর্বে রাষ্ট্র এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। ’৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর শুধু নদী দখল নয়, আমাদের নদীমাতৃক বাংলাদেশের পরিচয় বদলে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। দখলদারদের হাতেই সবকিছু তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় রাষ্ট্র কোনও ভূমিকা নেয়নি বলেই নদীগুলো দখল হয়ে গেছে। মসজিদ-মাদ্রাসা স্থাপনের নামে নদীর তীর দখল নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ইসলামি চিন্তাবিদদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছে, অবৈধ জায়গায় মসজিদ হতে পারে না। তাই আমরা অবৈধস্থানে স্থাপিত মসজিদগুলো অপসারণ করে অন্য একটি স্থানে স্থাপনের ব্যবস্থা করছি। নদীর তীর দখলমুক্ত করার কার্যক্রমে যারা বাধা দিতে আসবেন তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের পরিণাম অনেক ভয়াবহ হবে। আগামি ১০ বছরের মধ্যে বুড়িগঙ্গাসহ সব নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুস সামাদ প্রমুখ।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ